সাম্য ও স্বাধীনতার সুদৃঢ় কণ্ঠস্বর, বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘অগ্নিবীণা’র কালজয়ী সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজকীয় আবির্ভাব পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার মন্ত্রে গোটা বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি একাধারে বিদ্রোহী ও প্রেমিক—যাঁর ‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’। শোষিতের সপক্ষে তাঁর বজ্রকণ্ঠ এবং প্রেমিকের সুকোমল আকুলতা—এই দুই বৈপরীত্যের এমন মহাকাব্যিক সমাহার বিশ্বসাহিত্যেই বিরল।
গল্প, উপন্যাস, গান কিংবা সাংবাদিকতা—সর্বত্র তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ থাকলেও, কবিতার ভুবনে তিনি অনন্য এক স্রষ্টা। বাংলা কবিতার ধারায় তিনিই প্রথম, যিনি রাজনীতি, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে পরম মমতায় শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন। শাস্ত্রাচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল চিরকাল আপসহীন। প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায় ও ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে নজরুলের কবিতা রেখেছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মেতে ওঠা এই বহুমাত্রিক প্রতিভার তাবৎ কাব্যকীর্তি মলাটবদ্ধ হয়েছে এই কবিতাসমগ্রে। দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার শাশ্বত এক প্রামাণ্য দলিল এই গ্রন্থ, যা যুগ যুগ ধরে পাঠকের তৃষ্ণা মেটাবে।
| Book Name : | কবিতাসমগ্র |
| Authors : | কাজী নজরুল ইসলাম |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, August, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-18-7 |
| Total Page | 1048 |
স্বাধীনতা, মানবতা, প্রেম ও বিপ্লব ছিল তাঁর অনন্য সাধারণ সাহিত্যের মূল সুর। লেখক হিসেবে ছিলেন মৌলবাদ, বর্ণবাদ, লিঙ্গবিদ্বেষ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি সংগ্রামে, আন্দোলনে, বিশেষত মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। কাজী নজরুল ইসলাম। জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায়। বাংলা সাহিত্যের চিরবিদ্রোহী কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, রাজনীতিবিদ, গায়ক ও অভিনেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনের সৃষ্টিশীল সৈনিক নজরুল ‘লাঙল’, ‘নবযুগ’ ও ‘ধূমকেতু’র মতো সংবাদপত্রও সম্পাদনা করেছেন। কবিতার জন্য গিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদীর কারাগারে। আদর্শের বলে লড়েছেন নির্বাচনে। অসংখ্য বিচিত্র রাগ-রাগিণীর স্রষ্টা সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে রচেছেন তিন হাজারের বেশি গান। দেশাত্মবোধক গান, শ্যামাসংগীত, গজলে তাঁর জুড়ি বাংলায় আজও নেই। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সম্মানসূচক ডি.লিট’, ভারতে ‘পদ্মভূষণ’, বাংলাদেশে ‘একুশে পদক’ ও ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় চিরবিদ্রোহী কবিকে।