কথায় বলে বাঘের গল্প, ভূতের গল্প আর সাপের গল্প— এর আরম্ভ হলে আর শেষ নেই। জিম করবেটের শিকারকাহিনি হিমালয়ের, তরাইয়ের সেই মানুষখেকো বাঘেদের মুখোমুখি করে পাঠককে। তবে করবেট সাহেবের লেখায় শুধু বাঘের ভয়ে সন্ধে হয় না কারণ শিকারির হৃৎকলমের টানে পাঠকও পড়তে শেখে বনের ভাষা। জানে প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক চিরকালীন শ্রদ্ধার, বোঝাপড়ার। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বনের পাখির, প্রাণীর স্বভাব সম্বন্ধে করবেটের ছিল সম্যকজ্ঞান, কারণ বাল্য তাঁর কেটেছে হিমালয়ের পাদদেশে, শালবনে, যেখানে পশুপাখি বাঘ ভালুক এবং হরিণের সঙ্গে তাঁর হয়েছে সাক্ষাৎ পরিচয়। করবেট জাতে সাহেব হলেও ছিলেন নিম্নবিত্ত ঘরের, পড়াশোনা শেষ স্কুলেই, আজন্ম কাটিয়েছেন সাধারণ, দরিদ্র মানুষের সঙ্গে। যাদের জন্য নিজ জীবন বিপন্ন করে বারবার মানুষখেকোর পেছনে ঘুরেছেন, শিকার করেছেন। চম্পাবতের মানুষখাকী, রুদ্রপ্রয়াগের চিতার হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করে গাড়োয়াল- কুমায়ুনে হয়ে উঠেছেন, ত্রাহি মধুসূদন। ভারতবর্ষের প্রথম ব্যাঘ্র অভয়ারণ্য তাঁরই নামে স্থিত। নরখাদক শ্বাপদ শিকারের জন্য যে মনের জোর, বুকের সাহস ও শ্রম দেওয়ার সামর্থ্য করবেট দেখিয়েছেন—আজও তা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
| Book Name : | জিম করবেট অমনিবাস |
| Authors : | জিম করবেট |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, May, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-10-1 |
| Total Page | 848 |
১৮৭৫ সালের ২৫ জুলাই ভারতের নৈনিতালে জন্ম এডোয়ার্ড জেমস্ করবেটের। আমরা যাকে চিনি জিম করবেট নামে। পিতা ছিলেন ডাক বিভাগের আধিকারিক। মা গৃহিণী। চার বছর বয়সে পিতৃহারা হন। স্কুলের পড়া শেষে কুড়ি বছর বয়সে বেঙ্গল অ্যান্ড নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়েতে কাজ নেন। মোকামাঘাটে রেলওয়ের ঠিকাদারি করেছেন দু’দশক। অবসরের পরে ফিরে যান নৈনিতালে। ডোমিসাইল্ড ইংরেজদের মতো শীতটা কাটাতেন কালাধুঙ্গিতে। লড়েছেন দুটি বিশ্বযুদ্ধেই, প্রথমটিতে মেজর ও দ্বিতীয়টিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হয়ে। ভারতের বন্যপ্রাণী ও অরণ্য সংরক্ষণে তাঁর আগ্রহ ও চেষ্টা ছিল আজীবন। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম গ্রন্থ ম্যানইটার্স অব কুমায়ুন; সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বপরিচিতি লাভ করেন। প্রকাশকের তাগিদে লেখেন ম্যান ইটিং লেপার্ড অব রুদ্রপ্রয়াগ (১৯৪৮); মাই ইন্ডিয়া (১৯৫২); জঙ্গল লোর (১৯৫৩); দি টেম্পল টাইগার অ্যান্ড মোর ম্যানইটার্স অব কুমায়ুন (১৯৫৪)। নরখাদক শ্বাপদ শিকার করেছিলেন ১৯০৭ থেকে ১৯৩৮ অবধি। সাতচল্লিশে ভাগের দেশ ছেড়ে বড় বোন ম্যাগি ও অকৃতদার জিম চলে যান আফ্রিকার কেনিয়ায়। ১৯৫৫ সালের ১৯ এপ্রিল কেনিয়ার নিয়েরিতেই হয় তাঁর জীবনাবসান।