‘লিচু-চোর’ অথবা ‘ঝিঙে ফুল’ অথবা ‘খুকি ও কাঠ্বেরালি’। বাঙালির শিশুর বোলে নজরুলের কী সহজ স্বচ্ছন্দ বর্ণবহুল বিস্তার! তাঁর গতির জোয়ারে, ছন্দের চালে এক লহমায় বদলে গেল ঘুম ভাঙানোর গান। ভোর হলো, দোর খুলে খুকুমণি জাগল। সংকল্পের খেয়াল-খুশিতে কিশোর মন মুক্তির আনন্দে দেখল স্বপ্ন, বদ্ধ ঘরের কোণ থেকে বের হয়ে বিশ্বজগৎকে জানার।
শিশুদের জন্য লেখাগুলোর অধিকাংশ কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ১৯১৮ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে। বিদ্রোহী কবির বুকের ভেতরেও কোথায় যেন লুকিয়ে ছিল এক অবাক শিশু। যে প্রশ্ন করে, শুধায়—কোথায় ছিলাম আমি? স্বরের বৃত্তে, অবারিত উল্লাসে, অফুরন্ত আনন্দে নবাগত বাঙালির কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন। বরিত হলেন প্রতিভার এক বিস্ময়কর কীর্তিরূপে, যিনি জড়তা ও মৃত্যু থেকে নিজ মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন। সহজের, সাম্যের ছন্দে মোড়ানো কল্পনার রথে সওয়ার হয়ে দুঃসাহসিক অভিযানে সঙ্গী করে নিয়েছিলেন শিশু-কিশোরের নবীন দলকে, নতুনের গান গাইতে গাইতে। শুধু কবিতার ছন্দে নয়, ‘পুতুলের বিয়ে’র মতো নাটিকায়, হাসির গানে কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে খুদে উৎসুক শিশুমন সন্ধান পেল নির্মল আলোকের।
| Book Name : | ছোটদের নজরুল রচনাবলি |
| Authors : | কাজী নজরুল ইসলাম |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, June, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-13-2 |
| Total Page | 280 |
স্বাধীনতা, মানবতা, প্রেম ও বিপ্লব ছিল তাঁর অনন্য সাধারণ সাহিত্যের মূল সুর। লেখক হিসেবে ছিলেন মৌলবাদ, বর্ণবাদ, লিঙ্গবিদ্বেষ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি সংগ্রামে, আন্দোলনে, বিশেষত মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। কাজী নজরুল ইসলাম। জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায়। বাংলা সাহিত্যের চিরবিদ্রোহী কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, রাজনীতিবিদ, গায়ক ও অভিনেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনের সৃষ্টিশীল সৈনিক নজরুল ‘লাঙল’, ‘নবযুগ’ ও ‘ধূমকেতু’র মতো সংবাদপত্রও সম্পাদনা করেছেন। কবিতার জন্য গিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদীর কারাগারে। আদর্শের বলে লড়েছেন নির্বাচনে। অসংখ্য বিচিত্র রাগ-রাগিণীর স্রষ্টা সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে রচেছেন তিন হাজারের বেশি গান। দেশাত্মবোধক গান, শ্যামাসংগীত, গজলে তাঁর জুড়ি বাংলায় আজও নেই। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সম্মানসূচক ডি.লিট’, ভারতে ‘পদ্মভূষণ’, বাংলাদেশে ‘একুশে পদক’ ও ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় চিরবিদ্রোহী কবিকে।