নির্জন স্বাক্ষর একটি ভিন্নধর্মী উপন্যাস। জীবনের নানা টানাপোড়েন, দুঃখ-কষ্ট, পাওয়া না পাওয়া আর ব্যর্থতার মধ্যেও যে স্বপ্ন বেঁচে থাকে সেটা সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই উপন্যাসে প্রেম, আশা ও স্বপ্ন পূরণের গল্প আছে। দেশের রাজনীতি, সামাজিক অবস্থা, মানুষের বদলে যাওয়া জীবনের গল্প। নির্মেদ ও ঝরঝরে ভাষায় লেখা এ উপন্যাস নিমেষেই পাঠককে নিয়ে যাবে গল্পের গভীরে। এ এমনই এক জাদু এমনই এক আকর্ষণ, সহজ সরল ভাষার আকর্ষণ যা পড়া শেষ না করে ওঠা যায় না। এটি লেখকের পঞ্চদশ উপন্যাস। প্রতিটি উপন্যাসই ভিন্নমাত্রার। প্রতিটি উপন্যাসই পাঠক-হৃদয় ছুঁয়ে গেছে প্রতিবার। মেজবাহ উদ্দিন নামে এক তরুণের জীবন সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প এই উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যে আমেরিকায় গিয়েছিল কিন্তু ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাস ষোলো বছর পর তাঁকে ফিরে আসতে হয়। দীর্ঘ অভ্যাসের পরও সে দ্রুতই মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে। হতাশাকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেকে নুতন করে তৈরি করার এক অনন্ত লড়াইয়ের গল্প নির্জন স্বাক্ষর। ফিরে আসার পর প্রতি পদে নানা অভিজ্ঞতা ও বিচিত্র সব চরিত্রের কথা এই উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। কয়েক নারীও এসেছে ওর জীবনে। এর মধ্যে কাকে গ্রহণ করবে! এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে নির্জন স্বাক্ষর পড়তে হবে। এক বৈঠকে পড়ে ফেলার উপন্যাস।
| Book Name : | নির্জন স্বাক্ষর |
| Authors : | জসিম মল্লিক |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29364-6-3 |
| Total Page | 96 |
জসিম মল্লিক। লেখক ও সাংবাদিক। জন্ম ১৯৬১ সালে বাংলাদেশের বরিশালে। খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে লিখেছেন অসংখ্য গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। জসিম মল্লিক কানাডার নাগরিক এবং বর্তমানে পরিবারসহ টরন্টো বাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। দেশের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক ২০০০-এ সাংবাদিকতা করেছেন দীর্ঘদীন। জীবন যে এক আশ্চর্য গল্প, বয়ান; জসিম মল্লিক তার নিপুণ কারিগর। যে জীবনকে নিবারণ করা যায় না, অনিবার্য; জসিম সেই কাহিনিই তুলে ধরেন। গভীর বোধ, বেদনা আর বিহ্বলতা না থাকলে জীবনকে কতটুকুই বা বোঝা যায়। বোঝে মানুষ? হয়তো তা বুঝতেই জসিম ছুটে যান বরিশাল থেকে টরন্টো, মরক্কো থেকে মেক্সিকো, দুবাই থেকে ডালাস, আবার টোকিও থেকে মিলানো। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ডানা ঝাপটানো পাখির মতন। এই বয়ে চলা, উড়ে চলাই তাকে ঋদ্ধ করেছে, জীবনের বোধ ও গভীরতায় করেছে সমৃদ্ধ। তাই হতাশাকে প্রশ্রয় দেন না তিনি। জসিমের লেখায় ও যাপনে তাই ফুটে ওঠে। কেননা জসিম জানেন, জীবন মানেই ব্যর্থতা না, সেখানে সফলতাও আছে, শুধু ব্যর্থ বলে কোনো জীবন নেই। তা তিনি বিশ্বাসও করেন না। তাই জসিমের চরিত্ররা হারতে হারতে জিতে যায, জিততে জিততে হেরে যায়। কিন্তু সেই হেরে যাওয়াটা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উজানে মৃত্যুর মতো। পাওলো কোয়েলহোর আবার তল থেকে উঠে আসার মতো, হারুকি মুরাকামির ভাঙচুর ভাঙচুর শব্দের মধ্যেও জয়ের প্রবল স্বপ্ন। বিশ্ব ভূগোলের অভিজ্ঞতা ও বাসিন্দা তিনি। তাই তার কাহিনি, চরিত্র নির্দিষ্ট কোনো ভূগোল নির্দেশ করে না। তাই তার বলা রাঢ়িখালের মেয়েটির গল্প হয়ে ওঠে টরন্টোর জেনিফারের গল্প। এই যে স্পর্শ বিন্দুকে ছুঁয়ে যাওয়া ও এক হওয়াÑ এটাই লেখককে বৈশ্বিক মর্যাদা দেয়। আন্তর্জাতিকতায় জসিম মল্লিক তাই ভিন্নধারার এক কাহিনিকথক। স্বতন্ত্র, বলিষ্ঠ, উচ্চ মার্গীয়। ২০২২ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।