এ এক মহাজীবনের উত্তরাধিকার। কখনো তাঁর কলমে আগুনঝরা কবিতা, কখনো খাকি উর্দি গায়ে সাহসী সেনানী। কোনো সময়ে ইনিই আবার পেলব প্রেমিক, তাঁকেই আবার দেখি দৃপ্ত লেখনীতে সাম্যের গান গাইছেন। এত বিচিত্র কর্মকাণ্ডে ভরা একটিই মানুষ। মনুষ্যত্বের সন্ধানে তাঁর জীবন-সফর। তাঁকে নিয়ে বাঙালির গর্বের অন্ত নেই।
বাংলার লোকায়ত নাট্যধারার উত্তরাধিকার তিনি বহন করেছেন আজীবন। তাই তাঁর নাটক ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলের বাঁধনে সীমাবদ্ধ নয়। তাতে মূর্ত বাংলার, বাঙালির নিখাদ প্রেম, বিরহ ও সমাজবাস্তবতা। নজরুলের নাটকে গানের ছড়াছড়ি। যে গীতলতা হাজার বছরের আবহমান বাংলা নাট্যের নিজস্ব শিকড়, তাকে নজরুল আধুনিক মঞ্চের ভাষায় সযত্নে প্রাণ দিয়েছিলেন। অনবদ্য এই সমগ্রটি নজরুলের সেই অদেখা শৈল্পিক দর্শনের দলিল।
গীতি-আলেখ্য, রূপক-সাংকেতিক এবং শিশুতোষ—মূলত এই তিন ধারায় বিন্যস্ত তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলো। ‘ঝিলিমিলি’, ‘আলেয়া’, ‘মধুমালা’ ও ছোটদের হাসির নাটক ‘পুতুলের বিয়ে’-এর মতো অসামান্য রচনাগুলোকে এক মলাটে ধরে রাখল এই নাটকসমগ্র। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আগেই নজরুলের এই বহুমুখী নাট্যপ্রতিভাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানে এই গ্রন্থ এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
| Book Name : | নাটকসমগ্র |
| Authors : | কাজী নজরুল ইসলাম |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, September, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-25-5 |
| Total Page | 208 |
স্বাধীনতা, মানবতা, প্রেম ও বিপ্লব ছিল তাঁর অনন্য সাধারণ সাহিত্যের মূল সুর। লেখক হিসেবে ছিলেন মৌলবাদ, বর্ণবাদ, লিঙ্গবিদ্বেষ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি সংগ্রামে, আন্দোলনে, বিশেষত মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। কাজী নজরুল ইসলাম। জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায়। বাংলা সাহিত্যের চিরবিদ্রোহী কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, রাজনীতিবিদ, গায়ক ও অভিনেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনের সৃষ্টিশীল সৈনিক নজরুল ‘লাঙল’, ‘নবযুগ’ ও ‘ধূমকেতু’র মতো সংবাদপত্রও সম্পাদনা করেছেন। কবিতার জন্য গিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদীর কারাগারে। আদর্শের বলে লড়েছেন নির্বাচনে। অসংখ্য বিচিত্র রাগ-রাগিণীর স্রষ্টা সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে রচেছেন তিন হাজারের বেশি গান। দেশাত্মবোধক গান, শ্যামাসংগীত, গজলে তাঁর জুড়ি বাংলায় আজও নেই। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সম্মানসূচক ডি.লিট’, ভারতে ‘পদ্মভূষণ’, বাংলাদেশে ‘একুশে পদক’ ও ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন তিনি। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় চিরবিদ্রোহী কবিকে।