শূন্যের উপর ঘুরে ঘুরে নাচছে রিমঝিম! আর দর্শকসারির সামনে বসে বিস্ময়ে অপলক রায়হান। মোহগ্রস্তের মতো রিমঝিমের নূপুর বাঁধা পায়ের উপর দৃষ্টি আবদ্ধ রেখে ভাবছে, এ-ও কি সম্ভব! মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পলকে পলকে ঘুরে যাচ্ছে ছন্দের তালে তালে। একি রায়হানের চোখের ভুল? রিমঝিমের পা জোড়া মঞ্চের উপরে নয়, সে যেন নাচছে শূন্যের উপর। তাই তো মনে হচ্ছে রায়হানের! সে তার চোখ দুটোর দেখার ভুল মনে করে আরো গভীর, আরো তীক্ষèভাবে আটকে রাখে তার দৃষ্টি রিমঝিমের পায়ের উপর। এভাবে অপলক দৃষ্টি রিমঝিমের পায়ের উপর আটকে রেখে চেষ্টা করছে নিশ্চিত হবার। না, রিমঝিম মঞ্চের উপরে নয়, সে নাচছে শূন্যের উপরে। রিমঝিমের নাচ দেখতে দেখতে হয়তো রায়হান যেন ভুলে যায় নিশ্বাস নিতেও। হয়তো ক্ষণিকের জন্য থেমে যায় হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনখানি!
| Book Name : | লাইটপোস্টের মতো নীরবতা |
| Authors : | সালমা বাণী |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29364-7-0 |
| Total Page | 96 |
কানাডা প্রবাসী সালমা বাণীর জন্ম ঢাকায়, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে, ৩২ সেন্ট্রাল রোডে। শিক্ষাজীবনের শুরু ধানমন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে মেহেরুন্নিছা গার্লস স্কুলে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সালমা বাণী ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দান করেন। ইতিহাসে এমএ সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৯২ সালে কানাডা যান উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে অধ্যয়ন করেন ‘ক্রিয়েটিভ রাইটিংস’ বিষয়ের উপর। লেখালেখির শুরু প্রবাসীদের জীবনালেখ্য নিন্দিত উত্তরণ (২০০০) উপন্যাস দিয়ে। সালমা বাণীর বাংলা উপন্যাসের নতুন সংযোজন বস্তিজীবনের মহাকাব্যিক আখ্যান ভাঙারি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। গোলাপী মঞ্জিল উপন্যাস (২০১২) প্রকাশের পরপরই চ্যানেল আই ধারাবাহিক সিরিজ নাটকরূপে প্রচার করে। সালমা বাণীর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে পরিসরের মাপজোখ (২০১৩), ইমিগ্রেশন (২০১৪), যুবক হয়ে ওঠার সময় (২০১৭) এবং জলের উপর টিপসই (২০১৭)। গল্পগ্রন্থ বোবা সময় ও নীল উপাখ্যান বাংলা সাহিত্যে তাকে বিপুল জনপ্রিয় করে তোলে। লেখকজীবনের শুরুতেই ২০০১ সালে তিনি কাগজ প্রকাশন থেকে ‘কাগজ তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার’ লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে সালমা বাণী লাভ করেন ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’, ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০২৩ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’।