“চোখের বালি বেরোবার অনতিকাল পরেই তার সমাপ্তিটা নিয়ে আমি মনে মনে অনুতাপ করেছি। ওটা যে গল্পের অযোগ্য হয়েছে, নিন্দার দ্বারা তার প্রায়শ্চিত্ত হওয়া উচিত।” অকপটে লিখেছিলেন মহামহিম রবীন্দ্রনাথ। বাংলার, বাঙালির অসংকোচ প্রকাশের সাহস যিনি। ১৮৮০ সালে লিখেছিলেন ‘বিনোদিনী’। মানব অন্তর্জগতের জটিলতর রহস্যের উন্মোচন করে, গল্পাকারে। পরবর্তীতে বিস্তারে, বিশ্লেষণে ব্যাপক হয়ে তা রূপ নেয় উপন্যাসে, ‘চোখের বালি’তে। গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯০৩ সালে। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের কুশলতায় পূর্ণ বিকশিত হয় যেন মহেন্দ্র-বিহারী-আশালতা ও বিনোদিনী। পারিবারিক লক্ষ্মণরেখার অতলে কামনা-বাসনা-রিরংসায় জাগে যে উচ্ছ্বাস তাতে উন্মত্ত হয়ে ওঠে সংবেদনশীল পাঠকের মন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ‘চোখের বালি’র কুশীলবগণের পক্ষ সমর্থন করে লিখেছিলেন, “সাহিত্যের নবপর্যায়ের পদ্ধতি হচ্ছে ঘটনাপরম্পরার বিবরণ দেওয়া নয়, বিশ্লেষণ করে তাদের আঁতের কথা বের করে দেখানো।” ঘর-দুয়ার ও নিত্যকার সংসারের মায়া-বাসনার ঊর্ধ্বে আশালতার বালির স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়ার কথা কয় এই অনন্য সাহিত্যকীর্তি।
| Book Name : | চোখের বালি |
| Authors : | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29364-8-7 |
| Total Page | 248 |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ৭ মে ১৮৬১ সালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম। প্রিন্স দ্বারকানাথের পৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পুত্র। কৈশোরেই রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ হয়। পিতার সঙ্গ তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর কৈশোরে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কাদম্বিনী দেবী। রবীন্দ্রনাথ আজীবন এই মহিলার স্নেহস্মৃতি লালন করেছেন। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা বনফুল (১৮৭২) এবং কবিকাহিনী (১৮৭৮)। এইগুলি তাঁর উন্মেষ পর্বের রচনা। বাল্মীকি প্রতিভা (১৮৮১) নাটক, সন্ধ্যাসঙ্গীত (১৮৮২), প্রভাতসঙ্গীত (১৮৮৩), ছবি ও গান (১৮৮৪), কড়ি ও কোমল (১৮৮৬) প্রভৃতি রচনা থেকেই তাঁর নিজস্ব প্রতিভার বিকাশ। ১৮৯০ সালে মানসী কাব্যের প্রকাশ। এই সময় থেকেই তাঁর সৃজনীশক্তি বিচিত্রপথে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঊনবিংশ শতাব্দী শেষ হবার পূর্বেই তিনি বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক রূপে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত কবিতার এরঃধহলধষর নামে ইংরেজি অনুবাদ ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়। মূলত এই গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান এবং সমগ্র বিশ্বে খ্যাতি লাভ করেন। ৭ আগস্ট ১৯৪১ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।