তাঁর অননুকরণীয় গদ্যে-ছন্দের সাচ্ছন্দ্যে, প্রাণের সুরের মায়ায় যাত্রারম্ভ হয় বাঙালির, বাংলার—আজও। ১৯০৬ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘নৌকাডুবি’ মানব মনের অসীম অন্তর্দ্বন্দ্বের জটিলতর আবর্তের অপরূপ-অসামান্য এমনই এক আখ্যান। নিয়তির অনিবার্যতার রোষে-প্রকাশে চিরাচরিত প্রথা আর অন্তরাত্মার সত্যের দূরত্ব, জীবনবাদী রবীন্দ্রনাথের তুলনারহিত গদ্যে ভাস্বর হয়ে ওঠে, চিরকালের তরে। ঝড়ের প্রকোপে ওলটপালট হয়ে যাওয়া পরিচয়ের নামলিপি শুধু রমেশ, হেমনলিনী, কমলা ও নলিনাক্ষেরই নয়, পাঠকের হৃদয়কেও করে তোলে দ্বন্দ্বমধুর। নিয়তির নিঠুর পরিহাস আর সম্পর্কের জটিল আবর্ত হতে ক্রমে মেলে ধ্রুব সত্যের সন্ধানে অভিযাত্রার সংকেত। কুয়াশাচ্ছন্ন সেই নদীপারের ছায়ার মাঝে বিরাজ করে সত্য ও সুন্দর। উপন্যাসের প্রতিটি ছত্রে ছত্রে। বাঙালির মনস্তত্ত্বে আজও ‘নৌকাডুবি’ শুধুই একটি উপন্যাস নয়, বরং অনিশ্চিত ভাগ্যের চড়াই-উৎরাইয়ের চিরকালীন দর্পণ। বিশ্বকবির সৃষ্ট সেই মায়াবী বয়ানে আজও আমরা ফিরে ফিরে পাই শিকড় ও অস্তিত্বের গহিন স্বরূপের সন্ধান।
| Book Name : | নৌকাডুবি |
| Authors : | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29140-9-6 |
| Total Page | 296 |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ৭ মে ১৮৬১ সালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম। প্রিন্স দ্বারকানাথের পৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পুত্র। কৈশোরেই রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ হয়। পিতার সঙ্গ তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর কৈশোরে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কাদম্বিনী দেবী। রবীন্দ্রনাথ আজীবন এই মহিলার স্নেহস্মৃতি লালন করেছেন। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা বনফুল (১৮৭২) এবং কবিকাহিনী (১৮৭৮)। এইগুলি তাঁর উন্মেষ পর্বের রচনা। বাল্মীকি প্রতিভা (১৮৮১) নাটক, সন্ধ্যাসঙ্গীত (১৮৮২), প্রভাতসঙ্গীত (১৮৮৩), ছবি ও গান (১৮৮৪), কড়ি ও কোমল (১৮৮৬) প্রভৃতি রচনা থেকেই তাঁর নিজস্ব প্রতিভার বিকাশ। ১৮৯০ সালে মানসী কাব্যের প্রকাশ। এই সময় থেকেই তাঁর সৃজনীশক্তি বিচিত্রপথে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঊনবিংশ শতাব্দী শেষ হবার পূর্বেই তিনি বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক রূপে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত কবিতার এরঃধহলধষর নামে ইংরেজি অনুবাদ ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়। মূলত এই গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান এবং সমগ্র বিশ্বে খ্যাতি লাভ করেন। ৭ আগস্ট ১৯৪১ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।