আকাশে সূর্য ওঠে প্রতিদিন। বাংলার- মানুষের, ভাষার প্রত্যহের সেই বিবস্বান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একাই তিনি বাংলা সাহিত্যকে, বাঙালিকে এগিয়ে নিয়েছেন যোজন যোজন দূর সর্বব্যাপী সার্থকতায়, সাফল্যে। এশীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম ভূষিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে, ১৯১৩ সালে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের স্বকৃত ইংরেজি অনুবাদের জন্য। পরম করুণাময়কে সমর্পিত মধুর, সুরেলা ও ঝঙ্কারময়, সুললিত বেদনাবিধুর একমেবাদ্বিতীয়ম কথামালার অনন্য এক সৃষ্টি। সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে এমনকি নিদারুণ ধ্বংসলীলার মধ্যেও যাঁর গান, যাঁর কবিতা মানুষের হৃদয়জুড়ে আছে, থাকবে। প্রাচ্য, প্রতীচ্যের মহাসমুদ্রসম দুর্লঙ্ঘ-বিস্তর ব্যবধান দূর করেছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’। সেই ‘গীতাঞ্জলি’, যাকে অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছেন, ‘ভগবৎ ভক্তির কাব্য।’ প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও ঈশ্বর—এসব অনুষঙ্গে ‘গীতাঞ্জলি’তে যে তীর্থক্ষেত্র মহামহিম রবীন্দ্রনাথ নির্মাণ করেছেন, রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে আমাদের সেই রবীন্দ্রতীর্থে যাত্রা করতে হবে; রবীন্দ্রনাথ সব দেশের, সব মানুষের। দুঃখ-বেদনায় আজও আমরা তাঁর কাছেই হাত পাতি।
| Book Name : | গীতাঞ্জলি |
| Authors : | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, July, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-08-8 |
| Total Page | 192 |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ৭ মে ১৮৬১ সালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম। প্রিন্স দ্বারকানাথের পৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পুত্র। কৈশোরেই রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ হয়। পিতার সঙ্গ তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর কৈশোরে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কাদম্বিনী দেবী। রবীন্দ্রনাথ আজীবন এই মহিলার স্নেহস্মৃতি লালন করেছেন। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা বনফুল (১৮৭২) এবং কবিকাহিনী (১৮৭৮)। এইগুলি তাঁর উন্মেষ পর্বের রচনা। বাল্মীকি প্রতিভা (১৮৮১) নাটক, সন্ধ্যাসঙ্গীত (১৮৮২), প্রভাতসঙ্গীত (১৮৮৩), ছবি ও গান (১৮৮৪), কড়ি ও কোমল (১৮৮৬) প্রভৃতি রচনা থেকেই তাঁর নিজস্ব প্রতিভার বিকাশ। ১৮৯০ সালে মানসী কাব্যের প্রকাশ। এই সময় থেকেই তাঁর সৃজনীশক্তি বিচিত্রপথে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঊনবিংশ শতাব্দী শেষ হবার পূর্বেই তিনি বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক রূপে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত কবিতার এরঃধহলধষর নামে ইংরেজি অনুবাদ ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়। মূলত এই গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান এবং সমগ্র বিশ্বে খ্যাতি লাভ করেন। ৭ আগস্ট ১৯৪১ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।