চারটি খাতায় লেখা গোটা এক উপন্যাস, বিভা। সময়কাল—জানুয়ারি ১৯৩৩। বাংলা ভাষার নগ্ন-নির্জনতম হাতে লেখা সে উপন্যাসের প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৯৫ সালে। লেখকের লাশকাটা ঘরে যাওয়ার চার দশক পরে। অনুসন্ধিৎসু পাঠক অবগত ছিলেন যে তিনি উপন্যাসটির হুবহু পাঠটি পড়ছেন না; পড়ছেন খণ্ডিত ও পরিবর্তিত শব্দাবলির পাঠ। কেননা পাণ্ডুলিপির সবটুকুর হদিস তখনও মেলেনি। সম্পাদকরা তখনও খুঁজে ফিরছেন দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যখানে বাঙালি ঔপন্যাসিকের লেখা আত্মদর্শনময় উচ্চাকাক্সক্ষী এক নভেলের। গড়নে ইউরোপীয়, গদ্যে ঈষৎ ধীরগতির। উন্মোচনে আন্তরিক। পাঠকের ভাবনার অর্ন্তলীনে মানব সম্পর্কের জটিলতায়, নান্দনিক অনুভূতিতে জীবনানন্দীয় নৈর্ব্যক্তিকতার চূড়ান্ত এক উদাহরণ। ২০১৫ সালে রূপসী বাংলার কবির লেখা উপন্যাসের সর্বত্রের সন্ধান পান স্নেহাশিস পাত্র, ডা. ভূমেন্দ্র গুহের মারফত। পাঠকের সাথে ফের নাটকীয়ভাবে সাক্ষাৎ ঘটে অন্য, অনন্য জীবনানন্দ দাশের। ‘বিভা’ জীবনানন্দের উপন্যাসমালায় কোনো গৌণ খসড়া নয়, বরং অন্য এক উচ্চতর নির্মাণ।
| Book Name : | বিভা |
| Authors : | জীবনানন্দ দাশ |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, August, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-23-1 |
| Total Page | 224 |
জন্ম : বরিশাল, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯। আদি নিবাস গাওপাড়া, গ্রাম, বিক্রমপুর। পিতা বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাশ। বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই.এ (১৯১৭) সালে। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি.এ (১৯২১) ডিগ্রী লাভ। ১৯২২—১৯২৮—এর কলকাতা সিটি কলেজে, ১৯২৯—এ বাগেরহাট কলেজে ও ১৯২৯—১৯৩০—এ দিল্লীর রামযশ কলেজে অধ্যাপনা। ১৯৩০—এ ঢাকার লাবণ্য গুপ্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। কিছুকাল বেকার জীবন যাপন। ইনসিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কিছুদিন কর্ম সম্পাদন। কিছুকাল ব্যবসা করার পর ১৯৩৫—এ বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে অধ্যাপনার চাকরি লাভ। ১৯৪৬ পর্যন্ত এ কলেজে অধ্যাপনা। অতঃপর কলকাতা গমন। ১৯৪৭—এ ‘দৈনিক স্বরাজ’—এর সাহিত্য বিভাগ সম্পাদনা। ১৯৫১—১৯৫২— তে খড়গপুর কলেজে, ১৯৫২ তে বড়িষা কলেজে ও ১৯৫৩ থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাওড়া গার্লস কলেজে অধ্যাপনা। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : ‘ঝরা পালক’ (১৯২৮), ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬), ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২), ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮), ‘রূপসী বাংলা’ (১৯৫৭) তিনি একজন কথাসাহিত্যিকও। মৃত্যুর পর প্রকাশিত উপন্যাস : মাল্যবান (১৯৭৩), সতীর্থ (১৯৭৪)। গল্প সংকলন : ‘জীবনানন্দ দাশের গল্প’ (১৯৭৯)। জীবনানন্দ দাশের অপ্রকাশিত রচনাবলী খণ্ডে—খণ্ডে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। মৃত্যু : কলকাতা, ট্রাম দুর্ঘটনা, ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪।