নদী, বয়ে আনে পলি। গড়ে, ভাঙে হাজার বছরের সভ্যতা-সংস্কৃতি। নদী, বয়ে নিয়ে চলে তীরের মানুষের সুখ-দুঃখের, সংগ্রামের আখ্যান। কালজয়ী কথাশিল্পী অদ্বৈত মল্লবর্মণের অমর সৃষ্টি, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’—যা বিশ্বসাহিত্যে নদীকেন্দ্রিক লোকায়ত জীবনের অনন্য, অবিস্মরণীয় এক মহাকাব্য। কৈবর্তজীবনের স্বকীয় স্বাতন্ত্র্য, অন্তহীন সংগ্রাম, সরল প্রেম এবং নদীর মতোই ক্ষয়িষ্ণু এক জনপদের ট্র্যাজেডি মূর্ত হয়ে ওঠে তিতাসে। উপন্যাসটি অদ্বৈত লিখেছিলেন ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে। ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে, কলকাতার বিখ্যাত ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায়। লেখকের প্রয়াণের পর, ১৯৫৬ সালে নবভারত পাবলিশার্স প্রথম দু’মলাটে গ্রন্থাবদ্ধ করে তিতাসকে। যেখানে নদীর কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাসের কথা লেখেন নদীপারের সন্তান অদ্বৈত। তাঁর দরদী, নিখুঁত কলমে তিতাস শুধু নদী নয়, হয়ে ওঠে মালো জীবনের সুখ-দুঃখের নীরব সাক্ষী। পরিণত হয় প্রাণ-প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রতীকে। তিতাসের বহমান স্রোতের মতো এ উপন্যাস পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, জীবনের গভীরতম সত্য ও মানবিকতার চিরন্তন মোহনায়।
| Book Name : | তিতাস একটি নদীর নাম |
| Authors : | অদ্বৈত মল্লবর্মণ |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition, August, 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-2250-21-7 |
| Total Page | 280 |
জন্ম ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি। অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার গোকর্ণ; ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মাত্র ৩৭ বছরের আয়ু পেয়েছিলেন। পুরোটাই কাটিয়েছেন ক্ষুধায়, অসুস্থতার যন্ত্রণায়। ভয়ংকর মেধাবী হয়েও, ম্যাট্রিকে প্রথম শ্রেণি পেয়েও আর পড়তে পারেননি। মাসিক ‘ত্রিপুরা’, জাতীয়তাবাদী সাপ্তাহিক ‘নবশক্তি’, ‘মোহাম্মদী’, ‘যুগান্তর’, ‘আজাদ’, ‘নবযুগ’, ‘কৃষক’ আর ‘দেশ’ পত্রিকায় অনুবাদ, ফিচার লিখে করেছেন গ্রাসাচ্ছাদন। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ বাদেও লিখেছেন ‘শাদা হাওয়া’, ‘রাঙামাটি’, ‘দলবেঁধে’, ‘নয়া বসত’। অনুবাদ করেছেন আর্ভিং স্টোনের ‘লাস্ট ফর লাইফ’, জীবনতৃষ্ণা নামে। স্বকীয় গদ্যে, অনন্য শৈলীতে মানুষের সংগ্রামের কথা লিখেছেন ‘জাউল্যার পোলা’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ, মৃত্যুর হাত বেঁধে রেখে। ১৯৫১ সালের ১৬ এপ্রিল যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর প্রয়াণ ঘটে।