বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাস। আবির্ভাব ১৮৬৫ সালের মার্চে। রোমান্স, বীরত্বের ঔজ্জ্বল্যে আজও অমলিন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ই বাংলা কথাসাহিত্যের ভাষা ও ভাবের ঘরে খুলে দিয়েছিল নতুন এক দুয়ার। প্রকাশের পূর্বে নিজ সৃষ্টির শৈল্পিক সার্থকতায় সংশয়ী বঙ্কিমচন্দ্র জীবদ্দশাতেই দেখে গেছেন তেরোটি সংস্করণের আবির্ভাব। অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ও কানাড়িতে, সে সময়েই। ১৮৯৩ সালে মুদ্রিত হয় কালজয়ী এই উপন্যাসের শেষ সংস্করণ। যা আজও বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম রোমান্স-উপন্যাস হিসেবে সমাদৃত। বঙ্কিমচন্দ্রের লেখনীতে আয়েষা, জগৎসিংহ ও তিলোত্তমারা নিছক ত্রিকোণ প্রেমের চরিত্র নয়; বরং কর্তব্যবোধ, আত্মত্যাগ ও মানবিক গাম্ভীর্যের অনন্য এক আখ্যানের চালক। যাদের প্রাণের প্রবল আবেগের বিসর্জন, নিঃস্বার্থ আত্মাহুতির মহাকাব্যিক উচ্চতা আজও বিমোহিত করে পাঠককে। সন্ধান দেয় রূপকথা ও মধ্যযুগীয় রোমান্সের যুগপত তূরীয় আনন্দের। ‘দুর্গেশনন্দিনী’র মাধ্যমেই বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের সাম্রাজ্যে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘সাহিত্য সম্রাট’ হয়ে ওঠার জয়যাত্রার সূত্রপাত, সাফল্য লাভ।
| Book Name : | দুর্গেশনন্দিনী |
| Authors : | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29364-1-8 |
| Total Page | 160 |
অদ্ভুতকর্মা এক মানুষ। বাংলার প্রথম ‘আধুনিক’ পুরুষ। তাঁর রচনা ও ভাবনার প্রভাব বাঙালির মননে ও মস্তিষ্কে আজও প্রবল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মানুষ একজন, কিন্তু ছিল বহুমুখী পরিচয়। প্রথম সার্থক আধুনিক বাংলা উপন্যাসের স্রষ্টা, সাহিত্য সম্রাট, বঙ্গদর্শনের সম্পাদক। প্রথম বাঙালি গ্র্যাজুয়েটদের অন্যতম এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতার অনন্য ভাষ্যকার ‘ঋষি’ বঙ্কিমের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়ায়। জীবিকায় ব্রিটিশ রাজের খেতাবী, পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রশাসনের কঠিন চৌকাঠ ডিঙিয়ে তাঁর সত্য পরিচয় গড়ে উঠেছিল কলমের ডগায়। ১৮৯৪ সালে প্রয়াণের শতবর্ষ পেরিয়ে আজও তর্কে-বিতর্কে প্রাসঙ্গিক! রবীন্দ্রনাথ যথার্থই লিখেছিলেন—‘বঙ্কিমই বঙ্গভাষাকে বাল্যকাল হইতে যৌবনে উত্তীর্ণ করিয়া দিয়াছেন।’