রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বলেছেন, ‘শিক্ষিত শ্রেষ্ঠ’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ই ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম রীতিসম্মত ঔপন্যাসিক, ব্যঙ্গলেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যতাত্ত্বিক ও সমালোচক। উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালি সাহিত্যিক। জীবন দীর্ঘ নয়, কিন্তু কর্মকীর্তি বিপুল। তাঁর, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ প্রকাশ পায় ১৮৭৮ সালে। অবশ্যই প্রথমে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়ে। সাহিত্য সম্রাটের সামাজিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসাধন্য ও শিল্পী বঙ্কিমের কলানৈপুণ্যের সেরা নিদর্শন। ‘বিষবৃক্ষ’র ভাবাবহ ও পরিকল্পনার সূত্র ধরে রচিত ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, রোহিণী-গোবিন্দলাল-ভ্রমরের উপাখ্যান। কৃষ্ণকান্ত রায় যেমন তিনবার উইল বদল করেছিলেন ঠিক তেমনই বঙ্কিমও নানা সংস্করণে উপন্যাসটির ঘটনা ও চরিত্রে বদল এনেছেন। শিল্পী বঙ্কিম আর নীতিবাদী বঙ্কিম বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন এ উপন্যাসের জন্য। সে বিতর্ক ছুঁয়ে গেছে অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও। তিনি উদ্বেলিত হয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘উপন্যাসের চরিত্র শুধু উপন্যাসের আইনেই মরতে পারে, নীতির চোখ রাঙানিতে তার মরা চলে না’।
| Book Name : | কৃষ্ণকান্তের উইল |
| Authors : | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
| Publisher: | Inhouse book |
| Edition: | 1st Edition February 2026 |
| ISBN Number: | 978-984-29364-5-6 |
| Total Page | 128 |
অদ্ভুতকর্মা এক মানুষ। বাংলার প্রথম ‘আধুনিক’ পুরুষ। তাঁর রচনা ও ভাবনার প্রভাব বাঙালির মননে ও মস্তিষ্কে আজও প্রবল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মানুষ একজন, কিন্তু ছিল বহুমুখী পরিচয়। প্রথম সার্থক আধুনিক বাংলা উপন্যাসের স্রষ্টা, সাহিত্য সম্রাট, বঙ্গদর্শনের সম্পাদক। প্রথম বাঙালি গ্র্যাজুয়েটদের অন্যতম এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতার অনন্য ভাষ্যকার ‘ঋষি’ বঙ্কিমের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়ায়। জীবিকায় ব্রিটিশ রাজের খেতাবী, পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রশাসনের কঠিন চৌকাঠ ডিঙিয়ে তাঁর সত্য পরিচয় গড়ে উঠেছিল কলমের ডগায়। ১৮৯৪ সালে প্রয়াণের শতবর্ষ পেরিয়ে আজও তর্কে-বিতর্কে প্রাসঙ্গিক! রবীন্দ্রনাথ যথার্থই লিখেছিলেন—‘বঙ্কিমই বঙ্গভাষাকে বাল্যকাল হইতে যৌবনে উত্তীর্ণ করিয়া দিয়াছেন।’